content
stringlengths
0
129k
আরও একটু পাতা দিয়ে ঢেকে তিন-চার মিনিট বেক করে নামিয়ে নিন
ওপরে ঘি, ধনেপাতা ও বাদাম দিয়ে ১ মিনিট রেখে পরিবেশন করতে হবে
ফিগার সচেতনরা ফুলকপি খেতে পারেন নিঃশঙ্কায়, কারণ এতে ক্যালরির পরিমাণ অনেক কম
উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের রোগীরা ফুলকপি খেতে পারেন নিঃসঙ্কোচে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং কোলেস্টেরল কমাতেও ফুলকপি আমাদের বন্ধু
ফুলকপিতে থাকা প্রচুর পরিমাণে আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে বিশেষ সহায়ক
খাবার চিবুতে পারে এমন শিশুদের জন্য চাল-ডালে তৈরি খিচুরিতে সবজি হিসেবে সহজেই মেশানো যায় ফুলকপি
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ আজ নীলফামারীতে 'জঙ্গি আস্তানায়' র‌্যাবের অভিযান : গ্রেফতার ৫ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী করোনায় আরও ৭ হাজারের বেশি মৃত্যু ইতিহাসের এই দিনে : শনিবার, ৪ই ডিসেম্বর ২০২১ইং মেয়র পদে ফের নৌকার মনোনয়ন পেলেন আইভী
নিউজবিজয় এখন তিন ভাষায় পড়ুন -
বাংলাहिन्दी
প্রচ্ছদ
রাজশাহী, শিক্ষা ও সাহিত্য
বই প্রেমিক মোশারফ হোসেনের দুর্লভ পুঁথির সংগ্রহশালা বদলগাছীর ভাতশাইল গ্রামে
সৈকত সোবাহান, প্রতিনিধি বদলগাছী নওগাঁ :-
প্রকাশিত সময় :- মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১
উত্তরের বরেন্দ্র অঞ্চলের নিভৃতপল্লীর এক জনপদ নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ভাতশাইল গ্রাম
এই গ্রাম বাহিরের দশটা গ্রামের মতই
নেই তেমন কোনো পার্থক্য
এই গ্রামে আছে ধনী, দরিদ্র ও মধ্যেবিত্ত মানুষ
গ্রামে আছে ১ টি প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল, পোস্ট অফিস
অনেক গ্রামেই এসব আছে, নেই শুধু একজন মোশারফ হোসেন চৌধুরী
সাধারণ হয়েও যিনি অসাধারণ তার গড়া ভাতশাইল প্রগতি সংঘ পাঠাগার
সেই মোশারফ আর নেই
রেখে গেছেন তার জীবনভর সংগগ্রহের দুর্লভ স্মৃতি এই লাইব্রেরিতে
ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি খুব আকর্ষণ ছিলো মোশারফের
জানাযায়, বই পেলে আর কোনো কিছুর প্রয়োজন হতোনা তার
সেই সূত্র ধরেই চাকরাইলের রেজওয়ান লাইব্রেরির সদস্য হন
তখন তিনি সপ্তম শ্রেণির ছাত্র
এক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সেখানে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল তার
জুড়ে দেন কান্না-বই যে তাকে পড়তেই হবে
শেষে তার মা বললেন, ঠিক আছে তুই নিজেই একটি লাইব্র্রেরি শুরু কর, আমি তোকে বছরে ১০০ টাকা করে দেব
দাদিও রাজি হলেন ১০০ টাকা করে দিতে আর চাচা শফিউদ্দীন চৌধুরী তার বৈঠকখানা ঘর ব্যবহারের অনুমতি দিলেন তাঁকে
নিজের সংগ্রহের পাঁচটা বই ঠাকুমার ঝুলি, আলীবাবা, আনোয়ারা, সালেহা ও মুসলিম পঞ্চসতী এই নিয়ে শুরু হলো যাত্রা
সেটা ছিল ১৯৪৭ সাল
ধীরে ধীরে যুক্ত হলেন গ্রামের প্রবীণরা
মোশারফ হোসেন চৌধুরী ঝোলা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন বই সংগ্রহে বন্ধু- বান্ধব , আত্মীয় স্বজন পরিচিত-অপরিচিত যার কাছে যেটা পাওয়া যায়
আর লোভনীয় কোনো বই পেলে তো কথায় নেই
গ্রামের পর গ্রম, মাইলের পর মাইল হাঁটতেও তখন কোনো ক্লান্তি পান তিনি
১৯৫০ সালে এসে গঠিত হলো লাইব্রেরির কমিটি
দেখতে দেখতে সাতটা আলমারি বইয়ে ভরে গেল
শফি উদ্দীন চৌধুরীরর বৈঠকখানা আর সংকুলান হয় না
তাই নতুন জায়গা নির্ধারণ করা হলো
তার আর এক চাচা আলহাজ আব্দুল মতিন চৌধুরী তার ফাঁকা ১৫ শতাংশ জমি দান করেন ঐ লাইব্রেরিকে
আর সেখানে ৫০ হাত দৈর্ঘ্য, ১৫ হাত প্রস্থ মাটির ঘর তুলে দিলেন শফিক চৌধুরী
এ থেকে ভাতশাইল প্রগতি সংঘ পাঠাগার পেল নিজস্ব ঠিকানা
পড়াশোনার জন্য গ্রাম ছাড়তে হয় মোশারফ চৌধুরীকে
ঢাকায় এসে ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে
১৯৫২ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন তিনি
তাঁর চোখের সামনে সংগঠিত হয় রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন
বদলে দেয় তার জীবনবোধ ও জীবন দর্শন
দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নতুন করে তাঁকে ভাবিয়ে তোলেন
তার চোখ খুলে যায়
জন্ম নেয় নতুন উপলব্ধি
তাঁর ভাষায়, আমরা যতই বড় বড় কথা বলি না কেন, আমাদের ভেতর খুব বড় একটা ফাঁক রয়েছে
নিজেদের ঐতিহ্য আছে, ভাষা আছে, সংস্কৃতি আছে, ইতিহাস আছে কিন্তু আমাদের মধ্যে নেই চেতনা
ফলে সব কিছুই হয়ে পড়ে অন্তঃসারশূন্য
কাজেই সবার আগে প্রয়োজন মানুষের শিক্ষা, যা গ্রাম থেকেই শুরু করতে হবে
এর মধ্যে ব্যক্তি জীবনেও বয়ে যায় ঝড়
খুব কাছাকাছি সময়ে মারা যায় উৎসাহযাত্রী মা, দাদি ও আদরের বোন
তিনটি মৃত্যু তাকে অসহায় করে তোলে
লেখাপড়ার ইতি টেনে ফিরে আসেন গ্রামে
অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরেন লাইব্রেরিটিকে
নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন তিনি
তখন থেকে একটাই চিন্তা, কিভাবে লাইব্রেরির সংগ্রহ বাড়ানো যায়
গ্রামের মানুষকে লাইব্রেরিমুখী করা যায়
শুধু বই হলেই চলবে না, চলতি সময়ের খোঁজ-খবর রাখতে প্রয়োজন খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন
শুরু হলো পত্রিকা রাখা
সেখানেও বিপত্তি
গ্রামে নেই কোন পোস্ট অফিস, থানা সদর বদলগাছী
সেখান থেকে সময়মতো পত্রিকা আসে না
অনেক সময় হারিয়ে যায়
কাজেই পোস্ট অফিস দরকার
আবার শুরু হলো ছোটাছুটি
শেষ পর্যন্ত পোস্ট অফিস হলো গ্রামে
গ্রামের যুবকদের নিয়ে ক্লাব করলেন তিনি
গ্রামে রাস্তা নেই বৃষ্টি হলেই চলাফেরা করা যায় না
এবার উঠেপড়ে লাগলেন রাস্তা তৈরীর জন্য
১৯৬৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হয়ে তাও করলেন তিনি
কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই বুঝে গেলেন ও পথ তার নয়, তাই আবার পুরোপুরি ফিরে এলেন লাইব্রেরিতে
গ্রামে ঢোকার মুখেই লম্বা বারান্দাওয়ালা টিনশেড লাইব্রেরি ভবন প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যায়
১৯৯১ সালে বন্যায় মাটির ঘর ভেঙে গেলে জেলা পরিষদ নির্মাণ করে দেয় ইটের ঘর
পাশেই পোস্ট অফিস, হাই স্কুল, প্রাইমারি স্কুল
সামনে ফাঁকা মাঠ
১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে আসা প্রখ্যাত ব্রিটিশ লাইব্রেরি বিশেষজ্ঞ জে. স্টিফেন পার্কার এসেছিলেন লাইব্রেরিটি দেখতে
যাওয়ার সময় পরিদর্শন বইয়ে তিনি লেখেন, পৃথিবীর বহু দেশের অনেক লাইব্রেরি দেখেছি কিন্তু বাংলাদেশের সুদূর পল্লীতে এমন বৈশিষ্ট্যমতি লাইব্রেরি খুবই কম দেখেছি
সত্যিই বিস্মিত হতে হয় লাইব্রেরিটি দেখে
তিনি কক্ষ ভাগ করে ৭৫ ফুট লম্বা ভবনের ধারঘেঁষে চাপাচাপি করে রাখা ৪৬টি আলমারি
তার ভেতরে অতি কষ্ট করে রাখা ১৪হাজার ৩০০টি বই হাজারখানেক মূল্যবান পত্রিকা
লাইব্রেরিতে রয়েছে দেশ-বিদেশের মনিষীদের ছবি আর ঘরের মাঝে দিয়ে লম্বালম্বি সাজানো চেয়ার টেবিল
মাত্র পাঁচটি বই দিয়ে যে লাইব্রেরির যাত্রা শুরু করেছিল এখন সেখানে খোলা হয়েছে পাঁচটি বিভাগ
সাধারণ, গবেষণা, পত্রিকা, ইংরেজি ও ধর্মীয়
সাধারণ বিভাগে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের প্রকাশিত গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, ইতিহাস, রাষ্ট্রচিন্তা, দর্শন বিজ্ঞান সহ প্রভৃতি বিষয়ের বই
গবেষণা বিভাগে রয়েছে ৭৭টি প্রাচীন পান্ডুলিপি
এগুলো তালপাতা, কলম গাছের বাকল এবং হাতে তৈরি কাগজের লেখা
এর কোন কোনোটি ২০০ থেকে আড়াই শ বছর বা তারও পূর্বের বলে ধারণা করেন প্রাচীন পুঁথি সংগ্রাহক মোহাম্মদ আব্দুল্লা খান
মনসামঙ্গল, গাজী কালু চম্পাবতী, সহি ইউসুফ জোলেখা, ছহি শেখ ফরিদ, ছহি চাহার দরবেশ, ছহি বড় সোনাভান, গোলে বাকাওলি, জঙ্গে খয়বর সহ রয়েছে প্রভৃতি প্রাচীন পুঁথি
আছে প্রায় দেড় শ
লোক কবিদের কাহিনিমূলক বই আছে ২৫০টি
রয়েছে প্রায় ৩০০ বছর আগের হাতে লেখা কোরআন শরিফ
এ ছাড়াও উনিশ ও বিশ শতকের প্রথম দিকের বেশ কিছু মূল্যবান বই, যেগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, জয়পুরহাটের বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি ঘুরে ঘুরে