content
stringlengths
0
129k
মাহবুব লীলেনের গল্প ও অন্যান্য লেখা
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
রঞ্জনা ব্যানার্জীর গল্প পড়ুন
পড়তে ছবির উপরে ক্লিক করুন
মিশেল ফুকোর শৃঙ্খলা ও শাস্তির জগত
আদালত ও কয়েকটি মেয়ে
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পপাঠ
শিমুল মাহমুদের গল্পপাঠ
আমার ব্লগ তালিকা
ইউনিকোড থেকে বিজয় কনভার্টার
একাত্তরের গণহত্যা 1971
বাংলা অভ্র কনভার্টার
বাংলা লেখার অভ্র কিবোর্ড
রবীন্দ্রনাথের গীতবিতান
বঙ্কিম-রচনাবলী
পড়তে ছবিতে ক্লিক করুন
সন্ধান করুন
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ক্রোড়পত্র
পড়তে ছবিতে ক্লিক করুন
সাগুফতা শারমীন তানিয়া
দীর্ঘ সাক্ষাৎকার পড়ুন
মৌসুমী কাদের' এর গল্প
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সাক্ষাৎকার
লেখার প্রহর
হাসান আজিজুল হকের গল্প
আত্মজা ও একটি করবীগাছ
স্বপ্নময় চক্রবর্তীর গল্প
রাধাকৃষ্ণ
হোর্হে লুইস বোরহেসের সাক্ষাৎকার
আমাজন থেকে বইয়ের হাট প্রকাশিত ইবুক কিনুন
বইয়ের হাট লোগোতে ক্লিক করুন
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার
দি আর্ট অফ ফিকশন
মারিয়া বার্গাস ইয়োসার সাক্ষাৎকার
দি আর্ট অফ ফিকশন
হুলিও কোর্তাসারের সাক্ষাৎকার
দি আর্ট অফ ফিকশন
আইজ্যাক বাশেভিক সিঙ্গারের সাক্ষাৎকার
দি আরট অফ ফিকশন
ক্লিক করে পড়ুন
খুঁটিনাটি
ক্লিক করে পড়ুন
প্রিয় লেখক, আপনার জন্য
দি প্যারিস রিভিউ
রবীন্দ্র-রচনাবলী
ছবিতে ক্লিক করুন
ঝুম্পা লাহিড়ির সাক্ষাৎকার
পাঠকের মুখোমুখি
লালন ফকিরের গান
এমদাদ রহমানের লেখালেখি
গল্পপাঠ পড়ুন
গল্প নিয়ে আলাপ
মন্তব্য করুন
সভাপতি : দীপেন ভট্টাচার্য
টিম : মৌসুমী কাদের, নাহার তৃণা, স্মৃতি ভদ্র, রুখসানা কাজল, রঞ্জনা ব্যানার্জী, অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত, রুমা মোদক, মোজাফফর হোসেন, এমদাদ রহমান, কুলদা রায়
. দ্বারা পরিচালিত.
আকাশ অংশত মেঘলা হয়ে-থাকা দিনে দানেশ শেখ লেনের যুবক অভিষেক সরকার কিংবা ওর সমানবয়সী মহেন্দ্রনাথ মুখার্জি সরণির আমারও হতে পারে, পায়ের চামড়ার চটিটা পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি বিধানে ব্যর্থ হয়ে ছিঁড়ে-যাওয়া মাত্র অভিষেক অথবা আমি, যার সঙ্গে এমনটা ঘটবে, সে বুঝে যাবে, তারা এসে দাঁড়িয়েছে, বা বলা ভালো, আমরা, অর্থাৎ অভিষেক উ...
যেহেতু আমরা চারজনে পৌঁছোতে চেয়েছিলাম এই মোরিগাঙে এবং এই মুহূর্তে, এই আসন্ন শেষদুপুরে আমরা সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি, ফলত আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মুখের দিকে চেয়ে নিলাম আর দেখলাম, পথের ক্লান্তি, আমার কিংবা অভিষেকের চামড়ার চটির অকস্মাৎ ছিঁড়ে-যাওয়া জনিত বিরক্তি, মিশা অথবা উদ্দীপনার হাঁটার সময় বার দুয়েক পা মচকে যাওয...
দীর্ঘদিন আন্ডারগ্রাউন্ড পলিটিকস্ করবার কারণে যেহেতু অভিষেকের মধ্যে আদিবাসীদের নিয়ে একটা পূর্বাভিজ্ঞতা ছিল, স্বাভাবিকভাবে যখন আমাদের ঘুরতে-যাওয়ার প্ল্যান হচ্ছিল আর সেই সূত্রেই একের-পর-এক জায়গার নাম উঠে আসছিল, বাতিলও হয়ে যাচ্ছিল আবার, তখন মোরিগাঙ আসার প্ল্যানটা ও-ই দিয়েছিল
বলা বাহুল্য, একমাত্র ও বাদে আমাদের কেউ আর কস্মিনকালেও জায়গাটার নাম শোনেনি তখনও পর্যন্ত, তাই ও-ই দায়িত্ব নিয়েছিল আমাদের এবারের ট্যুরের মেরিট ও ডিমেরিটগুলো বোঝানোর
তিন মুগ্ধ শ্রোতাকে সামনে পেয়ে অভিষেক বলতে শুরু করেছিল : 'অল্পস্বল্প ইতিহাস স্কুল-কলেজে যা পড়েছিস, তা থেকে এটুকু তো জানা যে, সতেরোশো সাতাত্তর নাগাদ লুই বোনার্ড আমাদের দেশে প্রথম নীলকুঠি নির্মাণ করে
ইউরোপিয়ান মার্কেটে তখন নীলের চাহিদা আকাশছোঁয়া
যদিও নীলচাষে ক্ষতিটার পরিমাণটা বেশি বলে ওদেশে তার চাষ হত না
আমাদের কলোনিয়াল প্রভুদের নজর পড়ল আমাদের মাটির উপর
মোটের উপর এই পারস্পেক্টিভটা আমাদের সবারই জানা
তারপর ইতিহাস বইতে যেমন লেখা থাকে, সেই অকথ্য অত্যাচার, শোষণ, একটা সময় পর সেই নির্যাতন আর সইতে না-পেরে ফাইনালি আউটবার্স্ট
'
'দি ইন্ডিগো রিভোল্ট
আওয়ার ফার্স্ট পীজন মুভমেন্ট
ঠিক?' উদ্দীপনার চোখ চকচক করে উঠেছিল
উদ্দীপনার দিকে আলতো হাসি ছুঁড়ে দিয়ে ফের শুরু করেছিল অভিষেক : 'তো এই নীলবিদ্রোহ নীলকর সাহেবদের ঘুমের দফারফা করে ছাড়ল, ইংরেজ বিরোধিতার একটা সূত্রপাত হল, দীনবন্ধু মিত্তির নীলদর্পণ লিখে বাজার মাত করে দিল, আর মাইকেল সেটাকে ট্রান্সলেট করতেই আবার ইংরেজরা মারমার-কাটকাট হয়ে উঠল - ব্যাপারটা আদৌ তেমন হয়নি সেদিন
দীনবন্ধু নাটক নামানোর আগেই হরিশ মুখার্জি নিজের মতো করে লিখছিলেন হিন্দু পেট্রিয়টে
কিন্তু মনে রাখতে হবে, ওঁদের শ্রেণি-অবস্থানটা বরাবরই ছিল জমিদার-মধ্যস্বত্বভোগীদের দিকে
বেসিক্যালি যারা শোষণের মূল ভরকেন্দ্রে সেদিন ছিল, তাদের কথা আদতে কোথাও বলা হয়নি
ওই ওয়াজেদ আলি সাহেবই ঠিক কিনা, ট্র্যাডিশন! অ্যাকচুয়ালি, ওই রাজমহল-ছোটোনাগপুর থেকে আদিবাসীদের ধরে-ধরে ইছামতী দিয়ে নিয়ে আসা হত চাষের জন্য
চাষের জন্য বলাটা ভুল হল, আসলে ওদের বেগার খাটানো হত ওই চাষ এবং চাষ-পরবর্তী নীল বের করবার কাজে
মিশা, ওই যে তোরা বলিস না, অহোরাত্র, ওইরকম আটপৌরে খাটুনি
ফলে একটা সময় পর লোকগুলোর কর্মক্ষমতা বলতে আর কিছুই থাকত না
এইসব মহান প্রভুর চ্যালা-চামুণ্ডারা তখন ওদেরকে ধরে আবার জঙ্গলে, মানে কাছাকাছি যেহেতু এই মোরিগাঙ, ছেড়ে দিয়ে আসত সেখানে
'
শ্রোতা হিসেবে মিশা বরাবরই যে-কোনও বক্তার কাছে কাম্য; ও চুপ করে শুনে যাচ্ছিল
বিজ্ঞের মতো ভাব এনে আমি বলেছিলাম : 'তার মানে এই মোরিগাঙ বলে জায়গাটায় নীলকুঠি আছে
ওই ব্যারাকপুরের মতো
' শুনেই কটমট করে আমার দিকে চেয়েছিল অভিষেক : 'সব বিষয়ে মন্তব্য করতেই হবে! ওখানে কোনও নীলকুঠি নেই
কয়েক ঘর আদিবাসী এখনও রয়ে গেছে বলে শুনেছি
আর ছোটো একটা নদী আছে
কেউ বলে ময়ূরী, কেউ-বা মৌরি
মনে হয়, সেখান থেকেই মোরিগাঙ নামটা এসেছে
' মিশা ছিল বলে ওই মুহূর্তে অভিষেকের বাছা-বাছা বিশেষণের হাত থেকে বেঁচে গিয়ে মনে-মনে ওকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছিলাম
তারপর তো মোরিগাঙ যাব বলে ঠিক করা আমরা প্রথমে একটা দিন স্থির করি, যেটা অবশ্যই মাসের কোনও-একটা উইকএন্ড হবে কারণ যেহেতু সপ্তাহের অন্য দিনগুলোয় মিশার স্কুল থাকে
ছত্তিশগড় থেকে অভিষেক আর তেজপুর থেকে উদ্দীপনা দু'জনেই মোটের উপর দিনকয়েকের ছুটি জোগাড় করে এসেছে এবার
আমি তো সবসময়ই ঝাড়া হাত-পা
ফুলটাইম পিএইচ.ডি. করার বহু খারাপের মধ্যে, মানে, গাইডের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রেখে-যাওয়ার নিরলস নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা চালু রাখার মনোযোগী চেষ্টা, এখনও পর্যন্ত চাকরি না-জোটার আশঙ্কা, সময়মতো কাজটা গুটিয়ে-আনা নিয়ে দুর্ভাবনা, ডিগ্রিটা হাতে না-পাওয়া পর্যন্ত ক্রমিক দোদুল্যমান দশা সত্ত্বেও এটা ঠিক যে, ওই রিসার্চ ওয়ার...
তেমনই কোনও-একটা শনিবার ঠিক করা হয়েছিল যাওয়ার দিন হিসেবে
সেই দিনটা যে আজই, তা আপাতত বেশ বোঝা যাচ্ছে
সকাল-সকাল, মানে, অভিষেকের কাছে যেটাকে সকাল বলা যায়, কেন-না মিশা আসবার পর থেকে ওই অভ্যাসটি আমায় ছেড়ে গেছে, আমরা চারজন দেখা করেছিলাম শিয়ালদহ স্টেশনের জিআরপি বুথের সামনে
তারপর টিকিট কেটে বনগাঁ লোকাল
সকালের দিকে বনগাঁগামী ট্রেনে প্রায় প্রবাদতুল্য ভিড় হয় না বলেই কিনা জানি না, জেনারেল কম্পার্টমেন্টে মনোমতো একখানা জায়গা পেয়ে মিশা আর উদ্দীপনা দু'জনে জানলার ধারের দুটো সিট দখল করে নিয়েছিল
ট্রেন ছাড়ার পর আলতো রোদে হাওয়ার ঝাপটায় মিশার চুল, ক্ল্যাচার দিয়ে বাঁধা, উড়ছিল